ঢাকামঙ্গলবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. ইসলামী জীবন
  5. করোনা আপডেট
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. দূর্ঘটনা
  10. নাগরিক সংবাদ
  11. পাঁচমিশালি
  12. প্রচ্ছেদ
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রায়গঞ্জে ঘরের আশায় চেয়ারম্যানকে ঘুষ দিয়ে সুদের জালে ৮ জন


অক্টোবর ৩, ২০২১ ৮:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হুমায়ুন কবির সুমন :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ২নং সোনাখাড়া ইউনিয়নের হতদরিদ্র আব্দুল মজিদ সরকারি ঘর পাবার আশায় সুদে টাকা এনে দিয়েছিলেন চেয়ারম্যানের হাতে। আজ-কাল করতে করতে তিন বছর কেটে গেলেও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর। এদিকে তিন বছরে সুদের টাকা তিনগুণ হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ ওই ইউনিয়নের গোতিথা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অত্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল রিপন ও একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ বরাবর ৮ জন ভুক্তভোগী সরকারি ঘর দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও টাকা ফেরত পাওয়ার বিপরীতে পেয়েছে চেয়ারম্যানের হুমকি।
রোববার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান ওই ৮ জনের ৭ ভুক্তভোগী। তারা হলেন- আব্দুল মজিদ, হিজুলি খাতুন, সূর্য খাতুন, জরিনা খাতুন, রেজাউল করিম, শেফালী ও লায়লী খাতুন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের গোতিথা গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র মো. আব্দুল মজিদ গত ২০১৭ সালে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে দেয়া একটি ঘরের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল রিপন কাছে যান। তখন তাকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৭ হাজার টাকা দিতে বলেন চেয়ারম্যান। টাকা দিতে এলাকার এক মহাজনের কাছ থেকে সুদে ১৭ হাজার টাকা জোগাড় করে এনে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন।
এরপর থেকেই চেয়ারম্যান তাকে ঘর দেবেন বলে আজ-কাল করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এভাবে তিন বছর কেটে গেলেও আজও সরকারি ঘর আর জোটেনি তার কপালে। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বললেও সেটা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ কান্নাকন্ঠে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কতো গরীব মানুষকে ঘর দিয়েছে। কিন্তু আমি একটি ঘর পাওয়ার আশায় তিন বছর আগে মহাজনের কাছ থেকে সুদে ১৭ হাজার টাকা এনে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। ১৭ হাজার টাকায় প্রতি মাসে এক হাজার সাত শো করে সুদ দিতে হয়। সুদ বেড়ে তিন বছরে ৫১ হাজার টাকা হয়ে গেছে। আজও ঘর পেলাম না। মহাজনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো, এই ভেবে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এমন অভিযোগ করে সোনাখাড়া গ্রামের মৃত মহরব আলীর স্ত্রী হিজুলি খাতুন বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে ঘর দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি একজন অন্ধ মানুষ। কিভাবে আমার দিন যাবে। টাকা ও পেলাম না, ঘরও পেলাম না। এদিকে আমাকে ওই টাকার সুদ দিতে হয় প্রতিমাসে।
স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, এমন অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর ৮ জন করলেও ভুক্তভোগী রয়েছে অসংখ্য। কারন তারা ভয়ে মুখ খোলেনা।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল রিপন বলেন, আমি আবারও সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সেই জন্য আমার প্রতিপক্ষের লোক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আলম মুঠোফোনে বলেন, ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলে আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে আমি সাক্ষ্য প্রমানসহ শুনানী করে ইতিমধ্যে চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। আগামী দু একদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদনটি প্রেরণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।