ঢাকাশনিবার , ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. ইসলামী জীবন
  5. করোনা আপডেট
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. দূর্ঘটনা
  10. নাগরিক সংবাদ
  11. পাঁচমিশালি
  12. প্রচ্ছেদ
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহজাদপুরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থে ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ীর বাড়িতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ

admin
অক্টোবর ৯, ২০২১ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শাহজাদপুর সংবাদদাতা : পাবলিক প্লেসে নির্মাণের বদলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দরগারচর গ্রামের ধর্ণাঢ্য নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বাড়িতে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থে পাকা টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পে কর্মরত শাহজাপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোঃ হালিমের যোগসাজসে হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে এ অনিয়ম দূর্ণীতির লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দূর্ণীতি দমন কমিশন, সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২, শাহজাদপুর প্রেসক্লাব ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডবাসী মোঃ আমিনুল ইসলাম লিখিত এ অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম ও এলাকাবাসি জানায়, শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দরগারচর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ বাবদ লোকাল গভার্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) প্রকল্প থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আর হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। তিনি ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: হালিমের যোগসাজসে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জায়গার পরিবর্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই বাড়িতে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে নির্মাণ করেন।তারা আরও জানান, ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: হালিম সার্বক্ষণিক ভাবে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে থাকেন। এ কারণে তিনি শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসাবে তার অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ তদারকি করেন।

এরই সুবাদে এ কাজটির তিনি তদারকি করতে এসে ওই জায়গা নির্বাচন থেকে শুরু করে ইট, বালু, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেন। তারা বলেন, মো: হালিম ইউনিসেফে চাকরি করেন। উপজেলা পরিষদে চাকরি না করেও শুধু ইউএনওর সাথে সখ্যতা গড়ে তার সাথে সার্বক্ষণিক চলা ফেরা করার সুবাদে ইউএনওর প্রতিনিধি হিসাবে তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের তদারকি করেন।

এ ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের সাথে সখ্যতা গড়ে এ বিভাগের অধিন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের অধিন খাসজমিতে গুচ্ছগ্রাম সৃজন, সৃজিত ঘর বরাদ্দ নামে অর্থিক সুবিধা গ্রহণ,কর্মসৃজন প্রকল্প পরিদর্শনের নামে সুবিধা আদায়, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গোপনীয় ফাইলে হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের তদারকি করে থাকেন।
যা তার এখতিয়ারের মধ্যে পরে না। তারপরেও তিনি অজানা এক অদৃশ্য শক্তির বলে অহরহ এ কাজ করে আসছেন। এর ফলে প্রতিনিয়ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম হচ্ছে। তারা আরও বলেন,দরগারচরের ধর্ণাঢ্য নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের টিন দিয়ে ঘেরা বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকিসহ ২ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও হয়েছে মো: হালিমের ইশারায়। ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বাড়িতে নির্মাণাধিন টয়লেটের সাথে লোকাল গভার্ন্যন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) এর ফলক এখনও লাগানো রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পে কাজ করার সময় শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ,স্কুল ব্যাগ বিতরণ ও সেনিটারি সামগ্রী বিতরণেও তার নানা অনিয়ম দূর্ণীতি রয়েছে। এ সব অপরাধমূলক কাজ করে মো: হালিম গত ২ বছরে কোটিপতি বনে গেছেন। অবৈধ উপার্জিত এ অর্থ যাতে ধরা না পরে সে জন্য তিনি তার বিস্বস্ত ও নিকট আতœীয়দের মাঝে গচ্ছিত রেখেছেন।

এছাড়া তিনি নিজেকে সরকারী কমিউনিকেশন ফর সি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর বলে দাবী করেন। অথচ এ প্রজেক্ট ২ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। তিনি এ প্রজেক্টে কখনোই কর্মরত ছিলে না। এখনও নেই। তারপরেও নিজেকে বাচাতে তিনি এ

এ বিষয়ে ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। এ বিষয়ে হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনের সাথে কথা বলেন। তিনিই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিন বলেন, এলাকায় সরকারি জায়গা না থাকায় আব্দুল হান্নানের বাড়িতে টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি আমার সাথে নির্বাচনে হেরে গিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে হাবিবুল­াহনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাচ্চু এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ইউপি সদস্য ভুল জায়গায় টয়লেটটি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও সাহেবের সাথে আলোচনা করে সরকারি জায়গায় আরেকটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছি।

এ বিষয়ে ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: হালিম বলেন, আমি ইউনিসেফের কোন প্রজেক্টে ছিলাম না। ফলে ইউনিসেফের কোন প্রজেক্টেও অর্থ আতœসাতের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলে আমি বর্তমানে সরকারের কমিউনিকেশন ফর সি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে আছি শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কর্মরত আছি। এ প্রকল্পের অধিন কাজ গুলিই দেখাশোনা করি। এ ছাড়া অন্য কোন প্রকল্পের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থে ব্যবসায়ীর বাড়িতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এ ধরনের প্রজেক্টে আমার কোন সংশ্লিষ্টতাও নেই। শক্রতা বসত অভিযোগে আমার নাম দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু প্রকল্প বর্হিভ‚ত কাজ হয়েছে, সেহেতু বিষয়টি তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।