ঢাকাশনিবার , ২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আমাদের পরিবার
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলামী জীবন
  6. করোনা আপডেট
  7. কামারখন্দ
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরি-বাকরি
  10. জাতীয়
  11. নাগরিক সংবাদ
  12. পাঁচমিশালি
  13. বরিশাল বিভাগ
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানিকগঞ্জ পুলিশ বক্সে ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ- পথশিশু।

Link Copied!

মানিকগঞ্জ বাস-স্ট্যান্ড ট্রাফিক মোরে পুলিশ বক্সে এক পথশিশু নেশা করছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেচবুক মানিকগঞ্জ ১৮০০ গ্রুপ এ ভাইরাল হয়।

মানিকগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র বাস-স্ট্যান্ড এর ট্রাফিক মোরে পুলিশ বক্সে বসেই তারা নেশা করছে। ছবিটি গতকাল ফেচবুকে ভাইরাল হয়। মানিকগঞ্জের পুখুরিয়া গ্রামের আরাফাত খান ছবিটি পোস্ট করেছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি পথশিশু পলিথিন এর মধ্যে মুখ গুঁজে আছে। সে পলিথিন এ মুখ গুঁজে নেশা করছে এবং তা মানিকগঞ্জ শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা মানিকগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড ট্রাফিক মোরে পুলিশ বক্সের চত্বরের বসে। শুধু এই একজন পথশিশু নয় মানিকগঞ্জ শহরের এমন আরো অনেক পথ শিশু এভাবেই প্রকাশ্যে নেশায় আসক্ত। পথে দিন, পথে রাত। পিচ ঢালা পথই ঠিকানা। ভাগ্য তাদের পথে পথে। পথই তার শেষ ঠিকানা।

খোজ নিয়ে জানা যায়,মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পার্ক, বাসস্ট্যান্ড, রাস্তার ধারে, সরকারি স্থাপনার খোলা বারান্দায় বা পথে পথে বেড়ে ওঠা এমন শিশুরা মাদকসেবন, মাদক পরিবহন, ছিঁচকে চুরিসহ অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ সব ভবঘুরে পথশিশুর দেখা যায়, মানিকগঞ্জ কোট এর সামনে, খালপাড় ব্রিজের নিচে মাঝে মাঝে এবং এ ছাড়াও মানিকগঞ্জ শরের বিভিন্ন জায়গায় তাদের চলাচল।এদের কারও বাবা আছে, কিন্তু মা নেই। আবার কারও মা আছে, কিন্তু বাবা নেই। প্রায় সবাই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। বোতলসহ রাস্তায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে তা ভাঙাড়ি দোকানে বিক্রি করে। আবার কেউ কেউ পথচারিদের হাত-পা, ব্যাগ, মেয়েদের ওড়না টেনে ধরে টাকা আদায় বা ভিক্ষাবৃত্তির করছে। নেশার জন্য এসব শিশুরা সহজেই ডান্ডি সংগ্রহ করছে স্থানীয় সাইকেল পার্টস বা হার্ডওয়ার দোকানগুলো থেকে।

 

মানিকগঞ্জ শহরের স্থানীয় সাইকেল পার্টস বা হার্ডওয়ার দোকানগুলো থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় একধরনের জুতার আঠা, সাইকেলের টায়ারের গাম কিনে শিশুরা। বিভিন্ন দোকানে এসব গাম পাওয়া যায়। পলিথিনের ব্যাগে আঠালো ওই পদার্থ নিয়ে কিছুক্ষণ ঝাঁকানো হয়। তারপর পলিথিন থেকে নাক বা মুখ দিয়ে বাতাস টেনে নেয়।

কোনো কোনো শিশু-কিশোররা শপিং মানিকগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে কিছু টাকা বাসায় নিয়ে যায়, বাকি টাকা দিয়ে কেনে এই ড্যান্ডি নেশা। তাদের নেশার উপদান হলো ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ বা ড্যান্ড্রাইট আঠা (গাম), তবে ‘ড্যান্ডি’ নামেই এটি বেশি পরিচিত। এটা মূলত তীব্র ঘ্রাণযুক্ত এবং এ ঘ্রাণ থেকেই এক ধরনের আসক্তি হয়।

মানিকগঞ্জে এসব পথশিশুরা ঘাড়ে চটের বস্তা নিয়ে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিক, লোহা কিংবা পুরনো জিনিস বিক্রি করে ও মানুষের কাছে হাত পেতে যে আয় হয়, তা দিয়ে খাবার কিনে খায় এবং বাকি টাকা দিয়ে সর্বনাশী এ নেশা করে।

পথ শিশুরা মূলত মুচি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অল্প পরিমানে এ গাম কিনে নিয়ে নেশা করে থাকে।
গামটি টিউবে এবং কৌটায় দুই ভাবে পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত হার্ডওয়ারের দোকানে বিক্রি হয়।

একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, এ ভয়ঙ্কর নেশার কারণে শিশুদের মধ্যে অনেক ক্ষতিকারক প্রভাব দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, লিভার ডিজিজ,কিডনি ডিজিজ এবং এর ফলে শিশুরা মানসিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই গামের ঘ্রাণ শরীরের যেসব জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়, সেসব জায়গার কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আর কোষ নষ্ট হওয়ার কারণে মস্তিষ্কের কাজে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।

 

মানিকগঞ্জ শহরের স্থানীয় সমাজ সচেতন ও বিশিষ্ট জনেরা মনে করছেন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা; যা তাদের অধিকার। পথশিশু হলেও ওরা সমাজেরই একটা অংশ। এ ধরনের ভয়ঙ্কর নেশা থেকে শিশুদের রক্ষা করার দায়িত্ব এ সমাজেরই। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যবিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।