ঢাকামঙ্গলবার , ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আমাদের পরিবার
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলামী জীবন
  6. করোনা আপডেট
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. নাগরিক সংবাদ
  11. পাঁচমিশালি
  12. বরিশাল বিভাগ
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. বিশ্ব সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেমন আছেন শহীদ আবুল কালাম আজাদের মা?

আমিনুল ইসলাম
ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি
===================================
কেমন আছেন শহীদ আবুল কালাম আজাদের মা?
আমিনুল ইসলাম
ননী বেওয়া। সিরাজগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া স্কুল/বিএ কলেজ রোডস্থ বাসিন্দা। স্বামী মৃত-হোসেন আলী। মহান মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বুকের ধন সন্তান হারা শহীদ ক্তিযোদ্ধার মা তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামে সন্তান এবং স্বাধীনের পরে স্বামীরাহা জননী তিনি। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়েই তার সংসার। সম্প্রতি তার আরেক কন্যাও মৃত্যু বরণ করেছেন। দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রশাসনের দেয়া ৮শতকের এক খন্ড জমি এবং তৎসংলগ্ন ২৯ শতকের একটি পুকুর বাৎসরিক ( লীজকৃত) নিয়েই চলছে তার পরিবার। কন্যা আর নাতীদের নিয়ে কোন রকমে চলছে তার সংসার। ১৯৭৩ সাল থেকে ওই জমিতে বসবাস করলেও সরকারি ভাবে স্থায়ী বন্দবস্ত না দেয়াতে মাঝে মধ্যে পোহাতে হচ্ছে নানামুখি ঝামেলা। ১৯৪৬ সালে স্থানীয় জানপুর মহল্লায় মধ্যেবৃত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তিতে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া স্কুলের ১০ শ্রেনীর ছাত্র থাকা অবস্থায় আবুল কালাম আজাদ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে পরেন। আর সেই থেকে তার চিন্তা চেতনায় দেশ প্রেম। আন্দোলন আর দেশ মাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে যোগ দিতে ইচ্ছার কোন কোমতি ছিলনা তার।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিতে তিনি রওনা হন ভারতে। পরবর্তিতে ৭নং সেক্টরের অদিনায়ক মেজর কামরুজ্জামানের অধিনে দেশের বিভিন্নস্থানে সন্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়। ১৭ জুলাই ১৯৭১ সালে সন্মুখ যুদ্ধে পাক সেনাদের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদৎ বরণ করেন আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় আবুল কালাম আজাদের শহীদ হওয়ার সংবাদটি নিশ্চিত করে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক বরাবর ১হাজার টাকা পাঠান। সেই সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে শহীদ পরিবারকে পুর্নবাসনের জন্য একটি বাড়ী ও পুকুর দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ মাতাকে ওই বাড়ি-পুকুর এখনও স্থায়ী বন্দোবস্ত না দেয়াতে মাঝে মধ্যেই সৃষ্টি হচ্ছে ঝামেলা। সরকার পরিবর্তন এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সময়ে সরকারি ভিন্ন নিদের্শনার জন্য বর্তমানে শহীদ আজাদের মাতা ননী বেওয়া একখও শংকার মধ্যে বসবাস করছেন।

স্থানীয়  জেলা প্রশাসন কর্তৃক সরকারি ভাবে দেয়া লীজকৃত বাড়িতে ১৯৮৫-৮৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা বাড়িতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। শহীদ আবুল কালাম আজাদ স্মৃতিসৌধটির অনেক অংশ দেবে গেছে, কিছু অংশ ভেঙে গেলেও তা সংস্কার করা হয়নি। প্রতিবছর সন্তানের স্মৃতি ফলক আমি নিজেই ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করি। পারিবারিকভাবে আমরা এই স্মৃতিসৌধে মিলাদ মাহফিল আর শ্রদ্ধা জানালেও অন্য কারো দেখা পাওয়া যায় না। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে সরকার এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে আগে দাওয়াতপত্র দেওয়া হলেও বর্তমানে দেয়না। স্বেচ্ছায় সেখানে গেলে মন খারাপ হয়ে যায়। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে কোনো স্বীকৃতি অনুষ্ঠানগুলোতে পাওয়া যায় না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ করে এমন বাংলাদেশ গড়তে আমার সন্তান প্রাণ দেয়নি।
৯৬ বছর বয়সী ননী বেওয়ার এখনও নিজেই সন্তানের স্মৃতি ফলক নিজেই পরিস্কার করেন। তার ক্ষোভ শহীদ মাতা হয়েও এখন আমি অবজ্ঞার পাত্র। এমন বাংলাদেশের জন্যতো আমার সন্তান প্রাণ দেয়নি। তার কাতর কন্ঠে এ প্রতিবেদককে জানান,অতিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড থেকে বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে কোন পত্র পাইনা। মুক্তিযোদ্ধারা এখন আর খোনও নেয়না। তবে সুখের খবর বর্তমান জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহম্মদ দেরিতে হলেও ( ১৫.১২.২১) মহান বিজয় দিবসের একটি দাওয়াত পত্র পাঠিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা গাজী ফজলুর রহমান খানের মাধ্যমে।
তারমতে,মৃত্যুর পর আমার কন্যাদের কি অবস্থা হবে,এটাই এখন ভাবনার বিষয়। সরকারি ভাতা বিষয়ে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যার সময় থেকে ভাতার পাশাপাশি রেশনিং পাচ্ছেন। কিন্তু মাথাগোজার ঠাঁই এখনও নেই বরলেই চলে। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনার জীবন সায়াহ্নে সাক্ষাৎ চান। তিনি বলেন সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠে আমি শেখ সাহেবকে মাথায় টুপি পরিয়েছিলাম। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো মা-আমিই আপনার আজাদ। এমন স্মৃতি বলতেই তার দু’চোক দিয়ে গড়িয়ে পরে নোনাজল। রোগ-শোকে তিনি এখন বড়ই ক্লান্ত। জীবনের শেষ নিশ্বঃাস ত্যাগের আগে শেখ হাসিনার সাথে কথাবলাই তার শেষ ইচ্ছা বলেও তিনি জানান। তারমতে,দেশ স্বাধীনের আজ ৫০বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়েই চলছে । কিন্তু দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের নামের তালিকার ওপর ধূলা জমা পরছে। খোজ নিচ্ছেনা কেউ।

লেখকঃ

আমিনুল ইসলাম

সাংবাদিক ও

শহীদ আবুল কালাম আজাদ এর ভাগিনা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।