ঢাকাসোমবার , ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আমাদের পরিবার
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলামী জীবন
  6. এনায়েতপুর
  7. কক্সবাজার
  8. করোনা আপডেট
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরি-বাকরি
  11. জাতীয়
  12. নাগরিক সংবাদ
  13. পাঁচমিশালি
  14. বরিশাল বিভাগ
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নামদার হোসেনের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

হারুন অর রশিদ মুকুল
ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মরহুম নামদার হোসেনের জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নে কালিপুর গ্রামে। তার পিতা মরহুম আব্দুল জুব্বার মোল্লা। বর্তমানে এস বি ফজলুল হক রোড সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানী ই.পি. আরে চাকুরীতে যোগদান করেন। তাহার এফ এফ নম্বর ১৫২৮৫, তার মুক্তিযোদ্ধার গ্রেজেট নম্বর-সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ২১৬, মুক্তি বার্তা নম্বর-০৩১২০১০৩৩৮।
তার সংক্ষিপ্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস:-১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ হালুয়াঘাট ক্যাম্পে চাকুরী থাকা অবস্থায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা হয়। ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সাল হালুয়া ঘাট ক্যাম্পে পাকিস্তানী ই.পি.আর সুবেদার মেজর নামদার হোসেনকে দিয়ে একটি বিশাল হরিন শিকার করে। সেই হরিন নিয়ে সবাই ব্যস্ত এমন সময় এক মেসেজ আসে চিতা বাঘ ধরা পড়েছে চকির পাইয়া ভেঙ্গে দাও। ওয়্যারলেজ অপারেটর ছিলেন একজন বাঙালী ই.পি আর তাহার বাড়ী টাংগাইল। তিনি ওয়্যারলেজ মেসেজ শুনে নামদার হোসেনকে কানে কানে বলে ওস্তাদ চিতা বাঘ ধরা পড়েছে চকির পাইয়া ভেঙে ফেলতে বলেছে। তখন নামদার হোসেন বললেন ওয়্যারলেজ নষ্ট করে ফেল। অস্ত্রগাড়ের চার্জে আছে একজন বাঙালী ই.পি. আর তার বাড়ী টাংগাইল কালিহাতী তাকেও নির্দেশ দিল কিছু কিছু অস্ত্র গোপনে ক্যাম্পে পিছনে জংঙ্গলে রাখতে। ২৬ শে মার্চ ও ২৭ মার্চ পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে হরিনের মাংশ দিয়ে পোলাও খাওনো ব্যস্থা রেখেছে এর মধ্যে মাঝে মাঝে সুবেদার মেজর নামদার হোসেনকে বলে দেশ কিয়াহুয়া নামদার হোসেন বলতেন কুচ নাহিহুয়া সব ঠিক হায়।
এদিকে ২৬শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঢাকা এ্যাটাক। ২৭শে মার্চ রাত্রি ৮টা হইতে রাত্রি ২টা পর্যস্ত ডিউটি। ডিউটির জন্য পোশাক পড়ে একটি এল. এম. জি অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত হয়েছে। একজন পাকিস্তানী ই.পি আর পাকিস্তান থেকে এসেছে। ২৭ শে মার্চ তারও ডিউটি পড়ে কিন্তু নামদার হোসেন তাকে বলে তুই অনেক দূর থেকে জার্নি করে এসেছো তুমি যাও ঘুমাও আমি তোমার ডিউটি সামাল দিয়ে নিব। এক কক্ষে ১৬ জন পাকিস্তানী ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়েছে আর একটি ঘরে সুবেদার মেজর একাই ঘুমিয়েছে। রাত্রি ১০ টার দিকে অস্ত্রগারের সমস্ত হাতিয়ার দুই বাঙালী ই.পি আর বের করে নিয়ে যায় নামদার হোসেন তখন প্রস্তুতি নেয় পাকিস্তানী ই.পি আরদের ব্রাশ ফায়ার কয়ে হত্যা করার জন্য কিন্তু সাহস না পেয়ে বাহিরে এসে একটার পর একটা সিগারেট খাইতে থাকে আর ভাবতে থাকে এখন যদি আমি তাদেরকে হত্যা করতে না পাড়ি তাহলে ২টার পর আমাকে তারা মেরে ফেলবে। ভাবতে ভাবতে রাত্র ১২ টা তখন শেষ সিগারেটটা খেয়ে ফুল প্রস্তুত হয়ে রাত্রি ১২টা ৫মিনিটের সময় বড় কক্ষে ১৬ পাকিস্তানী ই.পি আরদের উপর ব্রাশ ফায়ার করে এক এল এম জি ম্যাগজিন শেষ করে বড় কক্ষ থেকে বের হয়ে সুবেদার মেজরের কক্ষে জানালা দিয়ে দেখে সে পোশাক পড়ে রেডি তার নিকট থাকা এস.এম.জি হাতে নিবে এমন সময় তাকেও ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। তার হাতে থাকা ৫ ব্যাটারি টসলাইট দিয়ে বড় কক্ষে গিয়ে দেখ যে কেউ জীবিত আছে কিনা দেখেজে নায়েব সুবেদার জীবিত আছে গ্যাংরাছে তাকে আর কয়টি গুলি করে হত্যা করেই দেখে সবার দেহ ছিন্ন বিছিন্ন হয়েছে রক্ত ভেসে বুট পর্যন্ত উঠেছে। ক্যাম্পে থেকে বের হইয়ে নামদার হোসেন চিৎকার দিয়ে বলে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। এমন সময় বাঙালী দুই ই.পি আর এবং অনেক স্থানীয় যুবক এসে তার নিকট হাজির হলে ক্যাম্পের সমস্ত হাতিয়ার যুবকদের নিকট তুলে দেয়। রাত্রি ১টা হালুয়া ঘাট ক্যাম্পের সমস্ত পাকিস্তানী ই.পি আর শেষ। তখন একজন এসে খবর দেয় ওস্তাদ বালুঘাট ক্যাম্পে বাঙালী ই.পি আর দের মেরে পাকিস্তানী ই.পি আর অবস্থান করছে। তখন নামদার হোসেন উম্মাদ হয়ে গেছে এবং বাঘের মত গর্জে উঠে বলছে জয় বাংলা জয় বঙ্গব›ধু চলো বালুঘাট কাম্পে বলেই বালুঘাট ভি.ও, পি ক্যাম্পের দিকে রওণা হয় এবং ক্যাম্পে পৌছেই গ্রেনেড চার্জ শুরু করে এবং ব্রাশ ফায়ার করে সমস্ত পাকিস্তানী ই.পি আরদের হত্যা করে বালুঘাট থেকে মমনসিংহ ক্যান্টারমেন্টের দিকে রওনা হয় তখন তাহার সাথে অনেক ক্যাম্প হইতে পলায়নরত বাঙালী ই.পি আর এবং অনেক যুবক একত্রিত হয়ে ময়মনসিংহ ক্যাম্পের দিকে রওনা হয়। এমন সময় একজন বলে ওস্তাদ ময়মনসিংহ জেল খানায় বাঙালীদের মেরে পাকিস্তানীরা সেফ হিসাবে অবস্থান করছে। তখন নামদার হোসেন জেল খানা এ্যাটাক করার জন্য জেল খানার দিকে রওনা হয় এবং জেল খানায় পৌছে জেল খানার গেট ভেঙে টুকে পড়লে পাকিস্তানী জেলার সামনে এসে বাধা দিলে এল এম.জি বাট দিয়ে মাথায় বাড়ি মারলে ঘাড় হইতে মাথা ছিড়ে যায় এবং তখন সে দুই হাতে দুই এল, এম, জি দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে জেল খানার সমস্ত পাকিস্তানী দের হত্যা করে। ২৯শে মার্চ ভোর ৫টা নামদার হোসেন তার সহযোগী বাঙালী ই.পি আর ও অনেক যুববকে নিয়ে ময়মনসিংহ ক্যান্টরমেন্ট এ্যাটাক করে। শুরু হল তুমুল যুেদ্ধ নামদার হোসেন ও বাঙালী ই.পি আর মেশিন গান দিয়ে পাকিস্তানীদের একটা একটা গুলি করে হত্যা করছে আর পাকিস্তানীরা অনেক যুবকদের মারছে এই ভাবে সাড়াদিন গোলাগুলির পড়ে বিকাল ৪ টায় দিকে পাকিানী সৈনিকরা শেষ হইয়ে যায় । তখন নামদার হোসেন জে ও সি ট্রেডি খানকে ধরার জন্য যায় ট্রেডি খান বিল্ডিং থেকে লাফ দেয় তখন বাঙালরিা ধরে ফেলে। তখন জে. ও সি. ট্রেডি খান নামদারকে বলে বুখ লাগগিয়া তখন নামদার হোসনে ব্রাশ ফায়ার তাকে হত্যা করে বলে বাঙালি খাবার আর তোদের দেওয়া হবে না বলেই চিৎকার দিয়ে উঠে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। তারপর তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে ময়মনসিংহে লতিফ সিদ্দিকের বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়। লথিফ সিদ্ধিকের বাড়ীতে কয়েক দিন অবস্থান করে এবং ঢাকা যুদ্দের যাওয়ার জন্য অনেক লোক সংগ্রহ করে যুদ্ধের জন্য ঢাকা অভিমুখে রওনা দেয়। তারপর ঢাকা মোহাম্মদ পুর সাড়ে সাত শত মত সহযোদ্ধা নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুমুখ যুদ্ধ শুরু করে । কিš‘ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ট্যাংকের গোলার তোপের মুখে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে। এ যুদ্ধে অনেক প্রাণ হারায় এবং যুদ্ধে টিকতে না পেরে ফেরত চলে আসে। নামদার হোসেন বাকী সহযোদ্ধাদের নিয়ে লতিফ সিদ্দিকির বাড়ীতে হাজির হয় এবং সেখানে অবস্থান নেয়। এরপর খবর আসে পাকিস্তানী সেনা বাহিনী কালিহাতির দিকে আসছে। কালিহাতি প্রবেশ মুখে একটি নদীর উপরে বড় ব্রীজ আছে। সেই ব্রীজটি নামদার হোসেন ডিনামাইন দিয়ে ভেঙে দেয় এবং নদীর পাড় দিয়ে ব্যাংকার করে এবং তার সহযোগী যোদ্ধারা সহ ব্যাংকার গুলিতে অবস্থান নেয়। ইতি মধ্যেই পাকিস্তানী সেনবাহিনী ট্যাংক বহর নিয়ে ভেঙে ফেলা ব্রীজের নিকট উপস্থি হয় এবং সেখানে তারা তাবু গাড়ে। এদিকে নামদার হোসেন তার সহযোগী যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছ যে যখন পাকিস্তানী সেনা বাহিনী নদী পার হওয়ার জন্য নদীতে নামবে তখন তাদের উপর এ্যাটাক করা হবে। পাকিস্তানী সেনাবহিনী নদী পার না হয়ে সেখানেই অবস্থান নেয়। নামদার হোসেনের ব্যাংকারে থাকার উপস্থিত টের পাইয়ে যুদ্ধের পজিশন নেয়। নামদার হোসেনের অনেক যুবক যোদ্ধারা মাথা উচু করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অবস্থান দেখার চেষ্টা করলে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীরা গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়। এই ভাবে সাত দিন না খেয়ে ব্যাংকারে লুকিয়ে থাকে। সাত দিন পর নামদার হোসেনের মাথার হিলমেট মেশিন গানের আগায় বেধে হিলমেটা যখন উপরে দিকে তুলে তখন বুঝতে পারে যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অবস্থান ছেড়ে চলে গেছে। তারপর নামদার হোসেন তার সহযোগী যোদ্ধাদের নিয়ে লথিফ সিদ্দিকের বাড়ীতে এসে হাজির হয় এবং রাত্রিতে তখন স্বরন হয় তার স্ত্রী একমাত্র সন্তান মুকুলের কথা এবং তার বাবা মা ভাই বোনদের কথা এই ভাবেই ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখে তার অনেক সহযোগী যোদ্ধারা পালিয়ে গেছে। তখন সে দুই বন্ধু ই.পি আর সাথে বাড়ী ফেরার চিন্তা করে। ঐ দুই ই.পি আর কে নিয়ে ৬ টি মেশিন গান ৬ টি এস এম জি ও অনেক ম্যাগজিন এবং গ্রেনেট নিয়ে টাংগাইল চড়ে নামদার হোসেনের শ্বশুর বাড়ীর এক আত্মীয় বাড়ীতে আসে এবং ঐ বাড়ীর পার্শ্বে বালুচড়ের ভিতর অস্ত্রগুলি পুতে রাখে।
তারপর তার দুই বন্ধুকে বাড়ী ফেরার জন্য নির্দেশ দেয় এবং তারা নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যায়। নামদার হোসেন আতœীয় বাড়ীতে অবস্থান নেয় এবং কিভাবে বাড়ী ফেরা যায় সেই চিন্তা করতে থাকে। এদিকে আতœীয় খবুই গরিব বাড়ীতে কোন খাবার নেই। সেখানে ৫দিন শুধু চড়ের মিষ্টি আলু খেয়ে থাকে। ৫ দিন পর সে একটি ভাংগা পেলেট ছেড়া পাঞ্জাবী ছেড়া লুঙ্গি কাপুর তালিদিয়ে একটি জোলনা একটি ছেড়া ছাতা ও গামছা দিয়ে মাথা বেধে ফকির সেজে বেলকুচি কল্যানপুর শ্বশুর বাড়ীতে উপস্থিত হয়। তার পর তার সন্তান মুকুলকে বুকের ভিতর জড়িয়ে ধরে কানানাকাটি করে, তার স্ত্রীরসহ শ্বশুর শ্বাশুরী সবাই কান্নাকাটিতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। শশুর বাড়ীতে দুই দিন অবস্থান করে রাত্রিতে তার গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। তার শ্বশুর বাড়ীর উপস্থিত হওয়ার কথা রাজাকাদের কাছে পৌছায় এবং পকিস্তানী সেনাবহিনীরা তার শুশুর বাড়ী মনে করে অন্য তিনটি বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এদিকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আসার খবর পেয়ে তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ীর সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং একটি শালিকা তার সন্তান মুকুলকে নিয়ে একটি গ্রামের ভিতর চতুর দিকে বেতের ঝোপ মাঝ খানে একট পুকুর বিশাল বিশাল কচতুরী ভিতর গিয়ে পালিয়ে থাকে। পালিয়ে যাওয়ার সময় আচলে কিছু মুড়ি নিয়ে যায়। চার দিন পযন্ত ঐ মুড়ি খেয়ে বেচেঁ থাকে তার সন্তান মুকুল। এদিকে নামদার হোসেন রাত্রিতে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্য অনেক যুবককে সংগ্রহ করে, সবাইকে বলে তার কাছে হাতিয়ার আছে ঐ গুলো নিয়ে ইন্ডিয়া যাবে এবং ইন্ডিয়া থেকে আরো অস্ত্র নিয়ে এসে যুদ্ধ করবো দেশ স্বাধীন করব। তখন বহু যুবক যুদ্ধে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়। সবাইকে কামারখন্দ থানার বলরামপুর নদীর ঘাটে হাজির হইতে বলে। নামদার হোসেন আগেই দুইজন লোককে চিঠি দিয়ে সেই দুই বন্ধু ই.পি আরদের টাংগাইল বালু চড়ে অস্ত্র পুতে রেখেছে সেখানে হাজির হওয়ার জন্য বলে দেয়। বলরামপুর নদীর নৌকা ঘাট হইতে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য ৫ নৌকা লোক নিয়ে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধ শোল্লগান দিয়ে সেই অস্ত্র রাখার স্থানে রওনা হয়। টাংগাইল বালুচর থেকে অস্ত্র তোলে এবং তার দুই বন্ধু ই.পি আর সেখানে হাজির হয়। সেখান থেকে রওনা দেয় পানি পথে ইন্ডিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য। ইন্ডিয়া যাওয়ার মাঝে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজের তোপের মুখে পড়ে, সেখানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যুদ্ধ জাহাজ হইতে বৃষ্টির মত তাদের নৌকার উপর গুলি ছোড়ে। ঐখানে অনেক হতাহত হয় এবং অনেকে নৌকা ছেড়ে সাতড়িয়ে পালিয়ে যায়। এবং পিছনের নৌকা ব্যাগে চলে আসে। তখন নামদার হোসেন ও তার দুই বন্ধু ই.পি. আর আরো কিছু লোক নিয়ে সাতড়িয়ে এক কাশিয়া ক্ষেতের ভিতর অবস্থান নেয় এবং কাশিয়া ক্ষেত হইতে বের হইয়ে তার কিছু সঙ্গীদের নিয়ে হেটেয় ইন্ডিয়ার দিকে রওনা হয় এবং ইন্ডিয়া ঢোকা মাত্রই ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনী তাকে ও তার সহযোগীদের এ্যারেস্ট করে নামদার হোসেনক তার সহযোগীদের তুরাগ জেলখানায় নিয়ে যায়। তুরাগ জেল থেকে মেসেজের মাধ্যমে তার পরিচয় নিয়ে তুরাগ জেল থেকে মানিকার চড়ে মুক্তি যুদ্ধ ট্রেনিং সেন্টারে নিযুক্ত করে। সেখানে নামদার হোসেন কিছুদিন মুক্তি যোদ্ধাদের ট্রেনিং করায়। এমপি মোতাহার তালুকদার নামদার হোসেনকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তার বড় সন্তান ফিরোজ তালুকদারকে তার হাতে তুলে দিয়ে বলে যে তাকে যুদ্ধে নিয়ে যাও। তারপর তাকে রোমারী সেভেন সেক্টরে তুফান ব্যাটালিয়নে ব্র্যাভো কোম্পানীর ইনেস্টেকটর হিসাবে দায়িত্ব পান এবং সেখানে হাজার হাজার মুক্তি যোদ্ধাদের ট্রেনিং করাইয়ে অস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধের জন্য পাঠিয়ে দেয় পরবর্তীতে তার আন্ডারে একটি গ্রুপ নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে আসে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখমুখী যুদ্ধে লিপ্ত হয় ফার্সিপাড়া রাজশাহী, রংপুর, হিলি, গোবিন্দগঞ্জ ও বিভিন্ন জায়গায় তুমুল যুদ্ধ করতে করতে বগুড়ায় এসে অবস্থান নেয়। বগুড়ায় নামদার হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা গ্র“প ও ইন্ডিয়ান সেনা বাহিনীর সাথে নিয়ে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল যুদ্ধ করে এবং শত শত পাকিস্তানি সেনাদের হত্যা ও এ্যারেষ্ট করে। বগুড়া মুক্ত হয় এবং দেশ স্বাধীন হয়। পরবর্তীতে নামদার হোসেন তার সব মুক্তি যোদ্ধাদের নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর এস এস রোডে এসে একটি মিলিশিয়া ক্যাম্প করে। সেটি বর্তমান মুক্তি যোদ্ধা সংসদ। সেই মিলিশিয়া ক্যাম্পে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং করায় যদি আবার যুদ্ধ বেধে যায়। দেশ বিজয় লাভ করল সমস্ত হাতিয়ার বি. এ. কলেজ মাঠে ক্যাপট্রেন মনসুর আলীর নেতৃত্বে জমাদান করল। বঙ্গবন্ধু সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ডাক দিলেন। নামদার হোসেন ইন্ডিয়ান মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পাইলেন ইন্সট্রেকটর হিসেবে। নামদার হোসেনর ইন্ডিয়ান মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটটি প্রকাশ করা হইল।
পরবর্তীতে তিনি বি.ডি. আরে যোগদান করেন এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী বি.ডি আর ক্যাম্প হইতে অবসর প্রাপ্ত হয়ে সিরাজগঞ্জ এস বি, ফজলুল হক রোডে তার নিজ বাসায় এসে অবস্থান নেয় এবং ব্যবসা বানিজ্য করে ১৬/১১/২০০০ ইং তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী, চার পুত্র ও এক কন্যা রেখে জান। এই মহানযোদ্ধার যুদ্ধের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হইল।

লেখক :
হারুন অর রশিদ মুকুল
বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নামদার হোসেনের সন্তান
এস বি ফজলুল হক রোড,
সিরাজগঞ্জ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।