ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আবহাওয়া
  3. আমাদের পরিবার
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলামী জীবন
  6. এনায়েতপুর
  7. কক্সবাজার
  8. করোনা আপডেট
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরি-বাকরি
  11. জাতীয়
  12. নাগরিক সংবাদ
  13. পাঁচমিশালি
  14. বরিশাল বিভাগ
  15. বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তাড়াশে জমে উঠেছে ঐতিয্যবাহী দইয়ের মেলা

যুগের কথা প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৪ ৩:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

 

 

এম মামুন হুসাইন ,তাড়াশ থেকে : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বুধবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঐতিয্যবাহী দই মেলা। হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বরস্বতি (বিদ্যাদেবী) পূজা অর্থাৎ শ্রীপঞ্চমী উপলক্ষে  তিন বছর থেকে শুরু হওয়া দই মেলা এখনও তার ইতিহাস ঐতিহ্য ও যৌলষ ধরে রেখেছে। দই মেলাকে কেন্দ্র করে চার জেলার নয় উপজেলার মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে মিলন মেলার সৃষ্টি হয়েছে।

দই মেলার সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব না হলেও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, প্রায় আড়াই শ’ বছর পুর্বে তাড়াশের জমিদার বনওয়ারি লাল রায় বাহাদুর ভারত বর্ষের বিভিন্ন সাধু ও বৈষ্যনদের তাড়াশের রাধাগোবিন্দ নাট মন্দির পরিদর্শনের জন্য নিয়ন্ত্রন করেন।জমিদারী প্রথা অনুসরণ করে জমিদার বনওয়ারি লাল রায় বাহাদুর অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য দই, চিড়া, মুরি- মুরকির ব্যবস্থা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর শ্রীপঞ্চমীয দিন তাড়াশে ঐতিয্যবাহী দই মেলার পরসা বসে আসছে। অনেকেই দই মেলাকে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মিলন মেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ বছর দই মেলায় শতাধিক ঘোষ দইয়ের পরসা বসিয়েছে। মেলায় ছোট বড় ছেলে মেয়ে ঘূ্রে ঘুরে দই ক্রয় করছেন। সব মিলে পায় ৫শ’ মন দই মেলায় আনা হয়েছে বলে দই বিক্রেতাদেয় দাবী।প্রকার ভেদে প্রতিটি দইয়ের নারি বা কাঁসা ২৫০টাকা থেকে ৩০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট নারি ও সরাদই ১৮০টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

তাড়াশ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার গোস্বামী বলেন,দই মেলা এ অঞ্চলের চারটি জেলার হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের অতিথি আপ্যায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বাপদাদার আমল থেকেই দেখে আসছি দই মেলার যৌলষ। কালের বিবর্তনে অনেকটাই কমে আসছে। ফলে আগের মত আর দই মেলার যৌলষ নেই। তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাধাগোবিন্দ নাট মন্দিরের সভাপতি সঞ্জিত কর্মকার জানান, দই মেলা তাড়াশের জমিদার আমলকে মনে করিয়ে দেয়। আমাদের পূর্ব পুরুষদের আমল থেকেই দই মেলার প্রচোলন ছিল। এ অঞ্চলের মধ্যে তাড়াশেই দইয়ের মেলা বসে। তাড়াশের ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার ধারকবাহক দই মেলা অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে। তাড়াশের নির্মল সরকার জানান, জমিদার আমল থেকেই চলে আসছে দই মেলা। দই মেলাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব বাড়িতে আসে। আজকের দিনে শুধু দই চিড়া, মুড়ি ও মুরকি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হবে। আজকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে কোনো ভাত রান্না হবে না।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি বাবু আশুতোষ স্যানাল বলেন, তাড়াশে দই মেলা আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মূলতঃ দুধের দামের উপর নির্ভর করে দইয়ের মুল্য নির্ধারণ করা হয় বলে জানান আনন্দ ঘোষ। চার জেলার শতাধিক ঘোষ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও এখন দই মেলায় দইয়ের পরসা নিয়ে বসে। বর্তমানে দুধের দাম বেশি হওয়ায় কারণে দইয়ের দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি। তাড়াশের গোপাল ঘোষের দই, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শ্রীপুরের ঐতিয্যবাহী চান্দু মিয়ার দই, শেরপুরের রিংকি দই,পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর উপজেলার নিপেন চন্দ্র ঘোষের দই, মাধাইনগরের মিলন ঘোষের দই, তাড়াশের রতন, অধির জীবন ঘোষের দই অন্যতম। তবে সব চেয়ে ভাল দিক বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার জলযোগ, রিংকি, জবা উল্লেখযোগ্য। দই বিক্রেতা উজ্জ্বল ঘোষ জানান, দই মেলা উপলক্ষে এবার ৫০মন দই ভরা হয়েছে। গুরুদাসপুরের শ্রীপুরের চান্দু মিয়া বলেন, শরীর খারাপ। এবার ৩০মন দই নিয়ে আসছি। সবার আগে আমিই প্রতিবছর সব বিক্রি করি।মাধাইনগরের মিলন ঘোষ বলেন আমি ৩৫মন দই মেলায় নিয়ে এসেছি। রতন ও জীবন ঘোষ জানান ২০মন মেলায় নিয়ে এসেছি। দইয়ের পাশাপাশি মেলায় ঝুরি মুরকি, চিড়া, মুড়ি উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।